জন্ম নিবন্ধন সংশোধন ও নতুন আবেদনের নিয়ম ২০২৬: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নির্ভুল পদ্ধতি
বর্তমানে নাগরিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন একটি অপরিহার্য দলিল। স্কুলে ভর্তি, পাসপোর্ট তৈরি কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সংশোধন—সবকিছুতেই জন্ম সনদ প্রয়োজন হয়। কিন্তু অনেকেই জানেন না কিভাবে অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করতে হয় কিংবা ভুল থাকলে তা সংশোধন করতে হয়। আজকের ব্লগে আমরা জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত সব তথ্য সহজভাবে তুলে ধরবো।
১. নতুন জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করার নিয়ম
এখন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনে করা যায়। এর জন্য নিচের ধাপগুলো অনু#সরণ করুন:
* প্রথমে জন্ম নিবন্ধনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট bdris.gov.bd-এ প্রবেশ করুন।
* 'জন্ম নিবন্ধন' মেনু থেকে 'নতুন জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন' অপশনে ক্লিক করুন।
* আপনার ঠিকানা (স্থায়ী ও বর্তমান) এবং ব্যক্তিগত তথ্যগুলো নির্ভুলভাবে বাংলায় ও ইংরেজিতে পূরণ করুন।
* ফরম পূরণ শেষে সাবমিট করলে একটি অ্যাপ্লিকেশন আইডি বা ফরমেট পাবেন। এটি প্রিন্ট করে নিন।
২. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আবেদন করার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আপনার ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। সাধারণত যা যা লাগে:
* টিকা কার্ড বা হাসপাতালের ছাড়পত্র (শিশুদের ক্ষেত্রে)।
* পিতা ও মাতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন বা এনআইডি কার্ডের ফটোকপি।
* বাসার হোল্ডিং ট্যাক্সের রসিদ বা ইউটিলিটি বিলের কপি।
* স্কুলের সার্টিফিকেট (যদি থাকে)।
আরো পড়ুনঃ নতুন এনআইডি (NID) কার্ডের আবেদন করার নিয়ম | অনলাইনে ভোটার হওয়ার পদ্ধতি
৩. অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার পদ্ধতি
যদি আপনার জন্ম সনদে নাম বা জন্ম তারিখে ভুল থাকে, তবে নিচের পদ্ধতিতে সংশোধন করতে পারেন:
১. ওয়েবসাইটে গিয়ে 'জন্ম নিবন্ধন সংশোধন' অপশনে ক্লিক করুন।
২. আপনার জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিয়ে সার্চ করুন।
৩. যে তথ্যটি ভুল আছে (যেমন: নাম বা বাবার নাম), সেটি সিলেক্ট করে সঠিক তথ্যটি লিখুন।
৪. সংশোধনের সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ বা এনআইডি আপলোড করুন।
৪. জন্ম নিবন্ধন চেক করার উপায়
আপনার জন্ম সনদটি অনলাইন কি না তা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। এটি করতে everify.bdris.gov.bd লিংকে গিয়ে ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিয়ে সহজেই চেক করতে পারেন।
উপসংহার
জন্ম নিবন্ধন একটি আইনি অধিকার। দালালের খপ্পরে না পড়ে সরাসরি সরকারি ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের সাহায্য নিন। আবেদন করার সময় নামের বানানের দিকে বিশেষ নজর দিন, কারণ একবার ভুল হলে তা সংশোধন করা বেশ সময়সাপেক্ষ।
