ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য মেডিকেল সার্টিফিকেট করার নিয়ম: ফরম ডাউনলোড ও নির্ভুলভাবে পূরণের পদ্ধতি
ড্রাইভিং লাইসেন্স বা লার্নার কার্ডের আবেদনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ডকুমেন্ট হলো মেডিকেল সার্টিফিকেট। বিআরটিএ (BRTA)-এর নিয়ম অনুযায়ী, একজন চালক শারীরিক ও মানসিকভাবে গাড়ি চালানোর যোগ্য কি না, তা নিশ্চিত করতেই এই সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হয়। আজকের ব্লগে আমরা জানাবো কিভাবে আপনি এই সার্টিফিকেট তৈরি করবেন এবং ফরমটি কোথায় পাবেন।
১. মেডিকেল সার্টিফিকেট কেন প্রয়োজন?
রাস্তায় গাড়ি চালানোর জন্য সুস্থ দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকা জরুরি। যদি কোনো ব্যক্তির কালার ব্লাইন্ডনেস (রং চিনতে সমস্যা) বা গুরুতর কোনো শারীরিক সমস্যা থাকে, তবে তিনি অন্যের জীবনের জন্য ঝুঁকি হতে পারেন। তাই একজন নিবন্ধিত ডাক্তার কর্তৃক প্রত্যয়ন পত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
২. মেডিকেল সার্টিফিকেট ফরমটি কোথায় পাবেন?
মেডিকেল সার্টিফিকেটের জন্য বিআরটিএ নির্ধারিত একটি নির্দিষ্ট ফরম রয়েছে। আপনি এটি দুইভাবে পেতে পারেন:
* অনলাইনে: বিআরটিএ-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে।
* বিআরটিএ অফিসে: সরাসরি অফিস থেকেও এই ফরম সংগ্রহ করা যায়।
> ডাউনলোড লিঙ্ক: BRTA Medical Certificate Form PDF
>
৩. সার্টিফিকেটটি কাকে দিয়ে পূরণ করাবেন?
বিআরটিএ-র নিয়ম অনুযায়ী, এই ফরমটি অবশ্যই একজন নিবন্ধিত এমবিবিএস (MBBS) ডাক্তার দ্বারা পূরণ এবং সত্যায়িত করতে হবে।
* ডাক্তারের অবশ্যই BMDC রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকতে হবে।
* আপনি সরকারি হাসপাতাল বা অনুমোদিত বেসরকারি ক্লিনিকের ডাক্তারকে দিয়ে এটি করিয়ে নিতে পারেন।
আরো পড়ুনঃ ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম, লার্নার থেকে স্মার্ট কার্ড পাওয়ার পূর্ণাঙ্গ গাইড
৪. ফরমে যে বিষয়গুলো পরীক্ষা করা হয়
ডাক্তার আপনার নিচের বিষয়গুলো পরীক্ষা করে ফরমে টিক চিহ্ন দেবেন:
* দৃষ্টিশক্তি (Vision): আপনি চশমাসহ বা চশমা ছাড়া কতটুকু স্পষ্ট দেখেন।
* কালার ব্লাইন্ডনেস: আপনি লাল, সবুজ ও হলুদ ট্রাফিক সিগন্যাল চিনতে পারেন কি না।
* শ্রবণশক্তি: আপনার কানে শোনার ক্ষমতা স্বাভাবিক কি না।
* শারীরিক গঠন: হাত বা পা সঞ্চালনে কোনো সমস্যা আছে কি না।
৫. মেডিকেল সার্টিফিকেট কতদিন কার্যকর থাকে?
সাধারণত মেডিকেল সার্টিফিকেট ইস্যু করার তারিখ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকে। অর্থাৎ, আপনি সার্টিফিকেট করানোর ৬ মাসের মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন না করলে সেটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাবে এবং আপনাকে আবার নতুন করে করাতে হবে।
সতর্কতাঃ
মেডিকেল সার্টিফিকেটের জন্য কোনো টাকা দিয়ে ভুয়া সিল ব্যবহার করবেন না, এতে আইনি জটিলতায় পড়ার সম্ভাবনা থাকে
উপসংহার
অনেকেই মেডিকেল সার্টিফিকেট তৈরি করতে গিয়ে ভুয়া ডাক্তারের সিল ব্যবহার করেন বা দালালের আশ্রয় নেন। মনে রাখবেন, বিআরটিএ এখন অনেক বেশি কড়াকড়ি করে। আপনার তথ্যে কোনো ভুল থাকলে বা ডাক্তারের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুয়া হলে আপনার লাইসেন্স বাতিল হতে পারে। তাই সরাসরি একজন রেজিস্টার্ড ডাক্তারের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিন।
