Posts

নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম ২০২৬: লার্নার থেকে স্মার্ট কার্ড পাওয়ার পূর্ণাঙ্গ গাইড

২০২৬ সালে নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়মগুলো জানুন। লার্নার লাইসেন্স আবেদন, পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং স্মার্ট কার্ড পাওয়ার খরচসহ সম্পূর্ণ গাইডলাইন

নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম ২০২৬: লার্নার থেকে স্মার্ট কার্ড পাওয়ার পূর্ণাঙ্গ গাইড

একটি বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া রাস্তায় যানবাহন চালানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বাংলাদেশে এখন ড্রাইভিং লাইসেন্স করার প্রক্রিয়া অনেক বেশি আধুনিক ও সহজতর করা হয়েছে। আপনি চাইলে ঘরে বসেই লার্নার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। আজকের ব্লগে আমরা জানাবো লার্নার কার্ড থেকে শুরু করে হাতে স্মার্ট কার্ড পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ।

১. আবেদন করার যোগ্যতা

 * বয়স: অপেশাদার (Non-Professional) লাইসেন্সের জন্য অন্তত ১৮ বছর এবং পেশাদার (Professional) লাইসেন্সের জন্য অন্তত ২১ বছর হতে হবে।

 * শিক্ষাগত যোগ্যতা: ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাস।

 * শারীরিক যোগ্যতা: মানসিকভাবে সুস্থ এবং দৃষ্টিশক্তি ঠিক থাকতে হবে।

২. প্রথম ধাপ: লার্নার বা শিক্ষানবিশ লাইসেন্স

ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রথম ধাপ হলো লার্নার কার্ড। এটি ছাড়া আপনি গাড়ি চালানো শিখতে বা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না।

 * অনলাইন আবেদন: BSP (BRTA Service Portal) ওয়েবসাইটে গিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলুন।

 * প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট: এনআইডি (NID) কার্ডের স্ক্যান কপি, নিবন্ধিত ডাক্তারের স্বাক্ষরিত মেডিকেল সার্টিফিকেট এবং এক কপি ছবি।

 * ফি জমা: অনলাইনে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে ফি জমা দিন। ফি জমা হলে সাথে সাথেই আপনার লার্নার কার্ডটি ডাউনলোড করতে পারবেন।

৩. দ্বিতীয় ধাপ: ড্রাইভিং পরীক্ষা (Field Test & Viva)

লার্নার কার্ড পাওয়ার ২-৩ মাস পর আপনাকে একটি পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। লার্নার কার্ডেই আপনার পরীক্ষার তারিখ এবং কেন্দ্রের নাম লেখা থাকবে। পরীক্ষা তিনটি ভাগে হয়:

১. লিখিত পরীক্ষা: ট্রাফিক সাইন এবং সাধারণ নিয়মাবলি নিয়ে।

২. ভাইভা: ট্রাফিক আইন সংক্রান্ত মৌখিক প্রশ্ন।

৩. প্র্যাকটিক্যাল (ফিল্ড টেস্ট): গাড়ি চালিয়ে দেখাতে হবে (যেমন: জিগ-জ্যাগ বা এল-টেস্ট)।

৪. তৃতীয় ধাপ: বায়োমেট্রিক প্রদান

পরীক্ষায় পাস করার পর আপনার মোবাইলে একটি অভিনন্দন বার্তা আসবে। এরপর আপনাকে নির্দিষ্ট তারিখে বিআরটিএ অফিসে গিয়ে ছবি তোলা, ডিজিটাল স্বাক্ষর এবং আঙুলের ছাপ (Biometric) দিয়ে আসতে হবে।



৫. চতুর্থ ধাপ: স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ

বায়োমেট্রিক দেওয়ার পর আপনাকে একটি অস্থায়ী লাইসেন্স বা 'একনলেজমেন্ট স্লিপ' দেওয়া হবে। আপনার স্মার্ট কার্ডটি তৈরি হয়ে গেলে মোবাইলে এসএমএস আসবে। তখন উক্ত স্লিপটি জমা দিয়ে আপনার অরিজিনাল স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারবেন।

ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি ২০২৬ (আনুমানিক)

 * লার্নার ফি: ৫১৮ টাকা (১টি ক্যাটাগরি), ১২৬টি (২টি ক্যাটাগরি)।

 * স্মার্ট কার্ড ফি (অপেশাদার): ৪,৫০০ - ৫,০০০ টাকার আশেপাশে (মেয়াদ ১০ বছর)।

 * পেশাদার লাইসেন্স ফি: ২,৫০০ - ৩,০০০ টাকার আশেপাশে (মেয়াদ ৫ বছর)।

উপসংহার

দালালের খপ্পরে না পড়ে নিজে অনলাইনে আবেদন করুন। এতে খরচ কম হবে এবং আপনি সঠিক পদ্ধতিতে লাইসেন্স পাবেন। ট্রাফিক আইন মেনে চলুন, নিরাপদ থাকুন।

About the author

Amdad
I am a simple person, I love to learn new things. I try to take something from every experience in life.

Post a Comment