Oppekha - অপেক্ষা


#অপেক্ষা

রাত ৩টা। ১২ টা বাজে থেকে বিছানায় ঘুমানোর চেষ্টা করছি। এখন পর্যন্ত ঘুমের কোনও নিশানা নাই। মনের মাঝে শুধু একটা কথাই বারবার ঘুরছে “ এতদিন ধরে যাকে ভালবাসলাম তার কালকে অন্যের সাথে বিয়ে”।

বিয়েতে আবার আমি আমন্ত্রিত। শুধু আমন্ত্রিত নই, অনেক দায়িত্ব আমার উপর পড়েছে ওর বিয়ের। কারণ যাকে আমি আজীবন ভালোবেসে গেলাম সে আমার কাজিন। আমি কেমনে পারবো আমার একমাত্র ভালোবাসাকে আমার সামনে দিয়ে অন্যের হাত ধরে চলে যেতে দিতে!!!!!!!!!! তাই কালকে কই ভাগবো, কিভাবে নিজেকে সামলাবো এই চিন্তায় ঘুম আসছে না আমার।

ওকে আমি আগেও বিয়ের পোশাকে দেখেছিলাম। তবে তা ছিলো স্বপ্নে। ওকে বিয়ের পোশাকে এতো সুন্দর লাগছিলো!!!!!!!!!!!! এতো সুন্দর ওকে কখনোই দেখি নাই আগে। যেনো মনে হচ্ছিলো লাল শাড়ী পড়া এক পরী আকাশ থেকে নেমে এসেছিল। তখনো অবশ্য এই সাজ ছিল অন্যের জন্যে। আমি শুধু দেখেই ছিলাম ওর দিকে। কিছুই বলতে পারতে ছিলাম না। কালেও আমাকে ওর দিকে দেখে থাকতে হবে। কিছুই বলতে পারবো না।

ওর নাম বৃষ্টি। ছোটকাল থেকে আমরা একসাথে। আমার ছোটকালে এক খেলার সাথী ছিলো ও। কখন যে ওকে ভালোবেসে ফেলি নিজেও জানি না। বুঝতে পারার পরেও চুপ করেছিলাম কখনো ভালোবাসার কথা জানাই নাই তখন। কারণ আমাদের পরিবারে কখনো আমাদের সম্পর্ক মেনে নিবে না। কিন্তু আস্তে আস্তে ভালবাসার পরিমান বাড়তে থাকে। কেমনে যে ওকে এতো ভালোবেসে ফেললাম নিজেও জানি না। ওর জন্যে যখন আমার ভালোবাসা চরমে তখন ঠিক করলাম ওকে আমার ভালোবাসার কথা জানাবো। একদিন সাহস করে বলে ফেললাম “তুমি আমার জীবনের একমাত্র চাওয়া। আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি”।

ওর জবাবের অপেক্ষায় ছিলাম অনেকদিন। একদিন জবাব এলো। ও আমাকে ভালোবাসে না। কক্ষনো ভালোবাসতে পারবেও না। ও নাকি শুধু আমাকে কাজিন হিসেবে দেখে। আমি যেনও ওকে ভুলে যাই। যেনও ওকে কোনদিন আরা ভালোবাসার কথা না বলি। ওর জীবন থেকে যেনও দূরে সরে যাই। অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম ওর এই জবাব পেয়ে। ওকে জিজ্ঞাস করেছিলাম কেনো আমাকে ও ভালবাসতে পারে না। কোনো উত্তর না দিয়ে শুধু বলল আগের কথা গুলো। ওকে ভুলে যেতে! কেমনে ভুলবো আমি ওকে। একমাত্র যাকে ভালবাসলাম। যাকে নিয়ে শুধু স্বপ্ন দেখলাম। তাকে কেমনে এতো সহজে ভুলতে পারবো! ওকে বলেছিলাম “ আমি আজীবন তোমার অপেক্ষায় থাকবো। আমার পক্ষে তোমাকে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়”।

ভুলতে পারিও নাই কখনো। ওর জন্যে এতো ভালবাসা খরচ করে ফেলেছিলাম যে অন্য কাওকে ভালোবাসা আমার পক্ষে সম্ভব হয় নাই। এখনো ওকে ভালোবাসি। তবে দূর থেকে। কখনো ওকে আর ভালবাসার কথা বলি নাই। ওর থেকে সবসময় দূরে থাকতাম যেনও ও কষ্ট না পায় কখনো আমার জন্যে।

যখন বৃষ্টির বিয়ের কথা শুনি সেদিন থেকে আজকের দিনটা নিয়ে চিন্তা করতাম, কি করবো আমি ওর বিয়ের দিন। আমি এখনো জানি না আমি কি করবো। এসব কথা চিন্তা করতে করতে কখন যে ঘুমাই গেলাম জানি না। ঘুম ভাঙল আম্মুর ডাকে। উঠে কতোক্ষন বসে রইলাম বিছানায়। আম্মু এসে আবার ডাকা শুরু করলো

“ কিরে এতো বেলা করে উঠে আবার এখন বসে আসছ? তাড়াতাড়ি নাস্তা করে রেডি হয়ে নে । বৃষ্টির বিয়েতে যেতে হবে না?” ।

“ আমার একটা কাজ আছে। তোমরা যাও। আমি পরে আসবো”।

এটা বলে পার পেতে চাইলাম।

“কিসের এতো কাজ?”

“ আছে একটা জরুরি কাজ আছে। কাজ সেরে যাবো”

“ আচ্ছা ঠিক আছে, রেডি হয়ে সুট পরে যা। কাজ সেরে বিয়েতে আসিস”

আরেকটা মজার কথা বলতে ভুলে গেছি। ওর বিয়ে উপলক্ষে আমাদের বাসার সবাইকে ওদের বাসা থেকে কাপড় দেওয়া হয়েছে। আমার জন্যে দেওয়া হয়েছে এক সেট সুট। কোনো রকমে সকালের নাস্তা করে, গোসল করে রেডি হয়ে বের হলাম। কই যাওয়া যায় চিন্তা করতে করতে বাসার থেকে দূরে এক টং-য়ে বসে চা খাওয়া শুরু করলাম। ঠিক কি চিন্তা করছিলাম তখন জানি না। কতক্ষন বসে থাকার পর পিছে থেকে কারো ডাক শুনলাম আমার নামে। পিছে ফিরে দেখি বৃষ্টির ভাই।

“ কি ভাই, বিয়েতে না যেয়ে এখানে বসে আসেন কেন?”

“ একটা কাজ ছিল .”

“কাজ থাকলে এখানে বসে আসেন কেনো? চলেন বিয়েতে। সবাই চলে গেছে। আপুও গেছে।”

কোনোভাবে বেঁচে বের হতে পারলাম না এখান থেকে। তাই বিয়েতে যেতেই হলো।

বিয়েতে গিয়ে দেখি সবাই এসে গেছে। বৃষ্টি বসেও গেছে স্টেজে। অবাক হয়ে দেখলাম ঐ স্বপ্নে ওকে যেমন দেখেছিলাম তেমন লাগছে ওকে এখন। স্বপ্নের মতো সুন্দর লাগছিলো ওকে। ওই স্বপ্নের মতো আজকেও ও অন্যের জন্য সেজেছে। ওর দিকে কতক্ষন যে তাকিয়েছিলাম নিজেও জানি না। ফিরতেই আশেপাশে সব কাজিন। সবাই ওর সাথে ছবি তুলতে যাবে। আমাকেও নাকি যেতে হবে। অনেক কৈফিয়ত দিয়ে পালাতে চাইলাম। কিন্তু সবার ঠেলাঠেলিতে নিজেকে স্টেজে আবিষ্কার করলাম। শুধু স্টেজে নয় বৃষ্টির পাশেই বসা আবিষ্কার করলাম। আমাকে দেখে ও একটা হাসি দিলো। আমার সবকিছু যেনও উল্টে গেলো। আবার ইচ্ছে হলো বলি “ আমি তোমাকে ভালবাসি”।

কিন্তু বলতে পারি নাই।

সবাই ছবি তুলে উঠে গেলো। আমিও উঠতে যাবো এমন সময় দেখি বৃষ্টি আমার হাত ধরে রেখেছে। ইশারায় বসতে বললো। ওর চাহানি আমি উপেক্ষা করতে পারলাম না। কিন্তু বুকের মাঝে দাবানল ফুটতে শুরু করেছে। চারপাশে কিছুই আর চোখে পড়ছে না। শুধুই আমি আর ও। চেয়ে থাকলাম ওর দিকে। কিছুক্ষন পর বললো “ তুমি কি পারবে আজ আমাকে অন্যের হাতে তুলে দিতে?”

চুপ করে রইলাম। কি বলবো?

ও আবার বললো “ যদি আমি বলি আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দাও”।

আমার বুকের মাঝে সুনামি শুরু হলো। কি বলবো কিছুই বুঝতে পারতেছি না। আমি কিছুই বললাম না। দেখি ও উঠে আমার সামনে এসে দাড়িয়ে বললো “ তুমি যখন বলতে পারলে না, তখন আমিই বলি। আমাকে বিয়ে করবে ???” ।

কি হচ্ছে কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। আশেপাশে তাকিয়ে দেখি সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসছে। ও আমার হতভম্ব অবস্থা দেখে পাশে বসে বলা শুরু করলো “ আমিও তোমাকে ভালোবাসি। কিন্তু আমাদের পরিবার কখনো আমাদের সম্পর্ক মেনে নিবে না বলে তোমার ভালোবাসার প্রস্তাবে রাজি হই নাই তখন। কয়েকদিন ধরে যখন আমার বিয়ের কথা হচ্ছিলো তখন সাহস করে বলি ফেলি যে আমি তোমাকে ভালোবাসি। দেখি সবাই রাজি। তাই ঠিক করলাম এভাবে তোমাকে সারপ্রাইজ দিবো। এখন বলো তুমি আমাকে বিয়ে করবে?” ।

আমার তখনো কিছু বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। মনে হুচ্ছিলো সবাই আমার সাথে খেলছে। নাহয় আমি স্বপ্ন দেখছি। ওকে বললাম “ এটা কি সত্যি নাকি আমি স্বপ্ন দেখছি??????”।

ও বললো “ না, এটা স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা। দেখো আমি তোমাকে চিমটি দিচ্ছি তুমি ব্যাথা পাবা” ।

ও আমাকে চিমটি দিলো। কিসের ব্যাথা! কোনো ব্যাথাই তো নাই! ও আমাকে ডাক দেওয়া শুরু করলো। কিন্তু ও কেমন জানি দূরে সরে যেতে শুরু করলো। অনেক দূরে চলে গেলো। তারপর আমি নিজেকে আবিষ্কার করলাম বিছানায়। আম্মু আমাকে ডাকছে। উঠে বসলাম বিছানায়। এতোক্ষন কি স্বপ্ন দেখলাম তা চিন্তা করা শুরু করলাম। আবার নিজেকে চিমটি দিয়ে দেখলাম। না, এতোক্ষন আমি স্বপ্নই দেখছিলাম। আম্মু আবার এসে ডাকা শুরু করলো “ কিরে এতো বেলা করে উঠে আবার এখন বসে আছিস ? তাড়াতাড়ি নাস্তা করে রেডি হয়ে নে । বিয়েতে যেতে হবে না?” আমি আম্মুর দিকে তাকিয়ে রইলাম........................

#youramdad
#amdadul3e

সমাপ্ত

About the author

Amdad
I am a simple person, I love to learn new things. I try to take something from every experience in life.

Post a Comment