আঁচল

Amdad
Amdad

#আঁচল

পুরাতন দোতলা বিল্ডিং। দুই একজায়গায় পলেস্তারা খসে পড়ে ইট দৃশ্যমান হয়ে আছে৷ বাড়ির প্রত্যেকটা জানালা আটকানো। সামনে সরু রাস্তা। শীতের ভয়াবহ প্রকোপে রাস্তা প্রায় জনমানব শূণ্য। বাইরে ভারী শীতের কাপড় জড়িয়ে প্রিয় কারো জন্য অপেক্ষা করছে নিতু। মাথা আর কান ঢেকে রেখেছে নীল রঙের একটা শাল দিয়ে। মুখটা ঢাকা হয়নি। ঠান্ডায় নাক লাল হয়ে আসছে তার। গতরাতেই তারা দুজনে ফোনে ঠিক করে রেখেছে আজ সকালে মতিঝিলের এক রেস্তোরাঁয় বসে সকালের নাস্তাটা সেড়ে নিবে৷ সেই সাথে এককাপ চা। যদি আসার সময় রাস্তায় ভাপা পিঠা পায় তো একদম জমে যাবে শীতের সকালটা। মাস দুয়েক হলো দুজনে আলাদা বসে একটু নিজেদের মত সময় কাটানো হয় না। সম্পর্ক সতেজ রাখতে, মনের ভার কাঁটাতে প্রিয়মুখগুলোর সাথে সময় কাটানো অতি জরুরী। তাছাড়া প্রিয় মানুষটাও বেশ জোড় দিয়েই আবদার করলো অতি সত্ত্বর তার সাথে কিছুক্ষণ সময় কাঁটাতে হবে। নিতুরও বেশ অস্থির লাগছিলো মানুষটার সাথে একটু আলাদা সময় কাটাতে না পেরে। এসব কিছু ভেবেই আজকের এই প্ল্যানিং। নিতু রিকশা দাঁড় করিয়ে রেখেছে সরু রাস্তার অপরদিকে৷ 

রিকশাওয়ালা বিরক্তি নিয়ে বললো,
- আপা দেরী হইতাছে তো?
- একটু মামা। আরেকটু.... 

পার্স থেকে ফোন বের করতে না করতেই বাড়ির মেইন গেট পেরিয়ে বের হয়ে এলো সেই প্রিয়মুখ। ভ্রু কুঁচকে নিতু বললো,
- এত্ত দেরী!
- আরেহ কাপড় জুতা খুঁজে পাচ্ছিলাম না৷ 
- তাড়াতাড়ি আসো৷ রিকশাওয়ালা মামা ক্ষেপে যাচ্ছে। 
- জামাই কই?
- ঘুমে রেখে এসেছি। তোমারজন কই?
- সে চা খায়।

তড়িঘড়ি করে রিকশায় চড়ে বসলো দুজনই। নিতুর নাক লাল দেখতে পেয়ে রাগী কন্ঠস্বরে সে বললো,
- নাক ঢাকিস নাই ক্যান? তোর যে সর্দি লাগে বেশি জানিস না?
- তোমার ধমক খাইনা অনেকদিন হয় আম্মু। ধমক খেতে ইচ্ছে হলো তাই নাক ঢাকিনি। 
- ছোটবেলায় তো ধমক দিলে কাঁদতে কাঁদতে বাপের কাছে বিচার দিতি। 
- আঁচলের নিচে থাকলে ভালোবাসা টের পাওয়া যায় না। আঁচল ছাড়া হওয়ার পর ধমকেও ভালোবাসা পাওয়া যায়। আমিও তোমার আঁচল ছাড়া হওয়ার পরই ধমকের মাঝে ভালোবাসা পেয়েছি। 

দুজনেই নিশ্চুপ। দুদিকে মুখ ফিরিয়ে বসে আছে দুজনে।  হয়তো দুপাশে ফিরে চোখের পানি আড়াল করার চেষ্টা করছে তারা.....

-সমাপ্ত-

About The Author

You may like these posts

Post a Comment