প্রতিটা নিঃশ্বাসে আমি তোমাকে নতুন করে লিখে যাই

Amdad
Amdad

যখন শহরের কোলাহল ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে, তখন স্মৃতির জানালাগুলো একা একাই খুলে যায়। আকাশের ওই একলা চাঁদটার মতো আমাদের গল্পটাও ছিল বড্ড একা, কিন্তু মায়াভরা।

সেদিন শ্রাবণের শেষ বিকেল ছিল। বাতাসের ঘ্রাণে ভেজা মাটির গন্ধ আর তোমার চোখে ছিল হাজারটা না বলা শব্দ। আমরা দুজনেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলাম স্টেশনের সেই পুরনো কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে। ঝরে পড়া লাল ফুলগুলো যেন আমাদের বিচ্ছেদের আলপনা এঁকে দিচ্ছিল।

আমি বলতে চেয়েছিলাম, "থেমে যাও, এই শহরটা তোমার অভাবে ধূসর হয়ে যাবে।" কিন্তু গলার কাছে শব্দগুলো দলা পাকিয়ে গেল। অভিমানী মেঘের মতো আমি শুধু চেয়ে রইলাম তোমার ছায়ার দিকে। তুমি একবারও ফিরে তাকাওনি। তোমার চলে যাওয়াটা ছিল কোনো এক অসমাপ্ত কবিতার শেষ চরণের মতো যেখানে ছন্দ আছে, কিন্তু পূর্ণতা নেই।

আজও যখন গোধূলির আলো ফিকে হয়ে আসে, আমি সেই পুরনো ডায়েরিটা খুলি। সেখানে শুকনো কিছু কৃষ্ণচূড়া ফুল আজও তোমার ঘ্রাণ বয়ে বেড়ায়। সময় এগিয়েছে নিজের নিয়মে, কিন্তু আমার ঘড়ির কাঁটাটা যেন সেই বিকেলেই থমকে আছে। কিছু ভালোবাসা পূর্ণতা পায় না বলেই হয়তো তারা অমর হয়ে থাকে, ঠিক যেমন রাতের বুক চিরে জেগে থাকা ওই নীল নক্ষত্রটা।

আমরা হয়তো আর কখনো এক হব না, তবু প্রতিটা নিঃশ্বাসে আমি তোমাকে নতুন করে লিখে যাই। কারণ, বিচ্ছেদ মানে তো হারিয়ে যাওয়া নয়; বিচ্ছেদ মানে হৃদয়ের এক কোণে কাউকে সযত্নে বাঁচিয়ে রাখা।

About The Author

You may like these posts

Post a Comment