ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার ও এনার্জি কী? বিদ্যুৎ বিল হিসাব করার সহজ নিয়ম

Amdad
Amdad

আমরা যখন বাজার থেকে একটি বাল্ব কিনি, তখন দেখি তাতে লেখা থাকে '20W' (২০ ওয়াট)। আবার মাস শেষে যখন বিদ্যুৎ বিল আসে, তখন সেখানে লেখা থাকে 'Unit' (ইউনিট)। এই ওয়াট এবং ইউনিট আসলে কী? ভোল্টেজ এবং কারেন্টের সাথে এদের সম্পর্কই বা কী? আজকের আর্টিকেলে আমরা এই বিষয়গুলো একদম পানির মতো সহজ করে বুঝব।ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার ও এনার্জি কী? বিদ্যুৎ বিল হিসাব করার সহজ নিয়ম

ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার (Electrical Power) কী?

​সহজ ভাষায়, কোনো একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ কাজ করে বা শক্তি খরচ করে, তাকেই পাওয়ার (Power) বলে।

পাওয়ার যত বেশি হবে, যন্ত্রটি তত বেশি শক্তিশালী হবে। যেমন: একটি ২ হর্স পাওয়ারের মোটর ১ হর্স পাওয়ারের মোটরের চেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং বেশি কাজ করতে পারে।

পাওয়ারের একক: পাওয়ারের আন্তর্জাতিক একক হলো ওয়াট (Watt), যাকে 'W' দিয়ে প্রকাশ করা হয়। বড় একক হিসেবে কিলোওয়াট (kW) ব্যবহৃত হয় (১০০০ Watt = ১ kW)।

সূত্র: ডিসি সার্কিটের ক্ষেত্রে, পাওয়ার (P) = ভোল্টেজ (V) × কারেন্ট (I)

ইলেকট্রিক্যাল এনার্জি (Electrical Energy) কী?

​পাওয়ার হলো একটি যন্ত্রের ক্ষমতা, কিন্তু সেই যন্ত্রটি কতক্ষণ ধরে চলছে বা মোট কতটুকু বিদ্যুৎ খরচ করছে, সেটিই হলো এনার্জি (Energy) বা বিদ্যুৎ শক্তি।

সূত্র: এনার্জি (E) = পাওয়ার (P) × সময় (t)

এনার্জির একক: বিদ্যুৎ শক্তির ব্যবহারিক একক হলো ওয়াট-আওয়ার (Wh) বা কিলোওয়াট-আওয়ার (kWh)। এই কিলোওয়াট-আওয়ারকেই আমরা সাধারণ ভাষায় 'ইউনিট' বলি।

১ ইউনিট বিদ্যুৎ আসলে কতটুকু?

​বিদ্যুৎ বিলের হিসেবে ১ ইউনিট = ১ kWh

এর মানে হলো, ১ কিলোওয়াট বা ১০০০ ওয়াট ক্ষমতার কোনো যন্ত্র যদি টানা ১ ঘণ্টা চলে, তবে সেটি মোট ১ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করবে।

নিজের বাসার বিদ্যুৎ বিল হিসাব করার নিয়ম

​আপনার বাসায় কোনো একটি যন্ত্র কত ইউনিট বিদ্যুৎ খাচ্ছে, তা বের করা খুব সহজ। নিচের সূত্রটি ব্যবহার করুন:

(kWh)= (Watt*Hours*Days)/1000

উদাহরণ:

আপনার বাসায় একটি ৮০ ওয়াটের ফ্যান প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা করে চলে। ৩০ দিনে ওই ফ্যানটি কত ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করবে?

ইউনিট = (৮০*১০*৩০)/১০০০

      = ২৪

এখন আপনার এলাকায় প্রতি ইউনিটের দাম যদি ৭ টাকা হয়, তবে ওই ফ্যানের জন্য মাসে বিল আসবে ২৪*৭ = ১৬৮ টাকা।

বিদ্যুৎ বিল কমানোর কিছু কার্যকর টিপস

​১. LED বাল্ব ব্যবহার করুন: সাধারণ বাল্বের চেয়ে LED বাল্ব অনেক কম ওয়াটে বেশি আলো দেয়।

২. অপ্রয়োজনীয় সুইচ বন্ধ রাখুন: রুম থেকে বের হওয়ার সময় ফ্যান-লাইটের সুইচ বন্ধ করার অভ্যাস করুন।

৩. এনার্জি স্টার রেটিং: এসি বা ফ্রিজ কেনার সময় হাই স্টার রেটিং দেখে কিনুন, এতে পাওয়ার খরচ কম হয়।

৪. পিক আওয়ার এড়িয়ে চলুন: সন্ধার সময় (পিক আওয়ার) যখন বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকে, তখন ইস্ত্রি বা পানির মোটরের মতো ভারী যন্ত্র না চালানোই ভালো।

উপসংহার

​পাওয়ার এবং এনার্জি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে আপনি যেমন আপনার বিদ্যুৎ খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, তেমনি মাস শেষে বিল নিয়ে কোনো বিভ্রান্তিও থাকবে না। টেকনোলজির যুগে এই ছোট ছোট জ্ঞানগুলো আমাদের জীবনকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করে তোলে।

About The Author

You may like these posts

Post a Comment