কারেন্ট (Current) কী? বিদ্যুৎ প্রবাহের প্রকারভেদ এবং এর কাজের সহজ ব্যাখ্যা
আধুনিক সভ্যতায় বিদ্যুৎ বা কারেন্ট ছাড়া আমাদের জীবন অচল। কিন্তু আমরা কি জানি এই কারেন্ট আসলে কীভাবে কাজ করে? বিজ্ঞানের ভাষায় কারেন্ট বা তড়িৎ প্রবাহের মূল রহস্য লুকিয়ে আছে অতি ক্ষুদ্র কণা 'ইলেকট্রন'-এর মধ্যে।
আজকের এই বিস্তারিত প্রতিবেদনে আমরা জানব কারেন্ট কী, এটি কত প্রকার এবং কীভাবে পরিমাপ করা হয়।
সহজ কথায়, কোনো পরিবাহী পদার্থের (যেমন: তামার তার) মধ্য দিয়ে ইলেকট্রন প্রবাহের হারকেই কারেন্ট বলা হয়।
প্রতিটি পদার্থ অসংখ্য পরমাণু দিয়ে গঠিত। পরমাণুর ভেতরে থাকে ইলেকট্রন। যখন কোনো পরিবাহীর দুই প্রান্তে ভোল্টেজ বা বৈদ্যুতিক চাপ প্রয়োগ করা হয়, তখন ইলেকট্রনগুলো নির্দিষ্ট একদিকে চলতে শুরু করে। ইলেকট্রনের এই অবিরাম প্রবাহকেই আমরা কারেন্ট (Current) বলি।
কারেন্ট পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক হলো অ্যাম্পিয়ার (Ampere), যাকে সংক্ষেপে 'A' দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
গাণিতিকভাবে, যদি Q পরিমাণ চার্জ t সময়ে প্রবাহিত হয়, তবে কারেন্ট (I) হবে:
I = Q/t
কারেন্ট পরিমাপের জন্য যে যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয় তার নাম অ্যামিটার (Ammeter)।
দিক পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে কারেন্ট প্রধানত দুই প্রকার:
১. এসি কারেন্ট (Alternating Current - AC)
যে কারেন্ট চলাচলের সময় নির্দিষ্ট সময় পর পর তার দিক পরিবর্তন করে, তাকে এসি কারেন্ট বলে।
২. ডিসি কারেন্ট (Direct Current - DC)
যে কারেন্ট সবসময় একদিকে প্রবাহিত হয় এবং দিক পরিবর্তন করে না, তাকে ডিসি কারেন্ট বলে।
কারেন্ট কীভাবে প্রবাহিত হবে তা নির্ভর করে দুটি জিনিসের ওপর— ভোল্টেজ এবং রেজিস্ট্যান্স। বিজ্ঞানী ওহমের সূত্র অনুযায়ী:
কারেন্ট (I) = ভোল্টেজ (V) / রেজিস্ট্যান্স (R)
অর্থাৎ, ভোল্টেজ বাড়লে কারেন্ট বাড়ে, আর রেজিস্ট্যান্স (বাধা) বাড়লে কারেন্ট কমে।
কারেন্ট কেবল তারের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া শক্তি নয়, এটি ইলেকট্রনের এক সুশৃঙ্খল নৃত্য। এসি এবং ডিসি—উভয় প্রকারের কারেন্টই আমাদের দৈনন্দিন প্রযুক্তিতে ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা পালন করে। কারেন্ট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক্স গ্যাজেট ব্যবহার ও মেরামত করা সহজ হয়।
১. কারেন্ট এবং ভোল্টেজের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: ভোল্টেজ হলো বৈদ্যুতিক চাপ, আর কারেন্ট হলো সেই চাপের কারণে প্রবাহিত ইলেকট্রনের স্রোত। পানির পাইপের সাথে তুলনা করলে পানির চাপ হলো ভোল্টেজ আর প্রবাহিত পানির ধারা হলো কারেন্ট।
২. ১ অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কোনো পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ১ কুলম্ব চার্জ প্রবাহিত হলে তাকে ১ অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট বলে।