রেজিস্ট্যান্স (Resistance) কী? বিদ্যুৎ প্রবাহের বাধা এবং এর প্রয়োজনীয়তা
ইলেকট্রিক্যাল সার্কিটে ভোল্টেজ এবং কারেন্টের পাশাপাশি যে শব্দটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেটি হলো রেজিস্ট্যান্স (Resistance) বা রোধ। কারেন্ট বা ভোল্টেজকে যদি আমরা একটি চলন্ত ট্রেনের সাথে তুলনা করি, তবে রেজিস্ট্যান্স হলো সেই ট্রেনের ব্রেক।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা রেজিস্ট্যান্সের আদ্যোপান্ত সহজ ভাষায় জানার চেষ্টা করব।
সহজ কথায়, কোনো পরিবাহী পদার্থের মধ্য দিয়ে কারেন্ট বা বিদ্যুৎ প্রবাহে যে বাধার সৃষ্টি হয়, তাকেই রেজিস্ট্যান্স বলে।
প্রতিটি পদার্থের নিজস্ব একটি গুণ আছে যার মাধ্যমে সে তার ভেতর দিয়ে ইলেকট্রন চলাচলে বাধা দেয়। এই বাধা দেওয়ার ধর্মকেই বলা হয় রেজিস্ট্যান্স। যে পদার্থের রেজিস্ট্যান্স যত বেশি, তার ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ চলাচল তত কঠিন।
আগের আর্টিকেলে আমরা পানির চাপকে ভোল্টেজ এবং পানির ধারাকে কারেন্ট বলেছিলাম। এখন রেজিস্ট্যান্স বুঝতে পাইপটির কথা ভাবুন:
রেজিস্ট্যান্সের আন্তর্জাতিক একক হলো ওহম (Ohm), যাকে গ্রিক অক্ষর ওমেগা (\Omega) দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞানী জর্জ সাইমন ওহমের নামানুসারে এই একক রাখা হয়েছে। রেজিস্ট্যান্স পরিমাপের জন্য ওহম মিটার (Ohm Meter) বা মাল্টিমিটার ব্যবহার করা হয়।
রেজিস্ট্যান্স, ভোল্টেজ এবং কারেন্টের সম্পর্ক বুঝতে ওহমের সূত্রটি জানা জরুরি। সূত্র অনুযায়ী:
R (রেজিস্ট্যান্স) =V (ভোল্টেজ)/I (কারেন্ট)
অর্থাৎ, রেজিস্ট্যান্স (R) হলো ভোল্টেজ (V) এবং কারেন্টের (I) অনুপাত। এখান থেকে বোঝা যায়, যদি ভোল্টেজ স্থির থাকে এবং রেজিস্ট্যান্স বাড়ানো হয়, তবে কারেন্ট কমে যাবে।
একটি পরিবাহীর রেজিস্ট্যান্স মূলত ৪টি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে:
১. পরিবাহীর দৈর্ঘ্য: তার যত লম্বা হবে, রেজিস্ট্যান্স তত বাড়বে।
২. পরিবাহীর প্রস্থচ্ছেদ (পুরুত্ব): তার যত মোটা হবে, রেজিস্ট্যান্স তত কমবে।
৩. উপাদান: একেক পদার্থের রেজিস্ট্যান্স একেক রকম (যেমন: তামার চেয়ে লোহার রেজিস্ট্যান্স বেশি)।
৪. তাপমাত্রা: সাধারণত তাপমাত্রা বাড়লে পরিবাহীর রেজিস্ট্যান্স বেড়ে যায়।
অনেকে মনে করতে পারেন রেজিস্ট্যান্স তো কারেন্ট কমিয়ে দেয়, তাহলে এটি খারাপ? আসলে তা নয়। রেজিস্ট্যান্সের কারণেই আমরা বিদ্যুৎকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি:
রেজিস্ট্যান্স হলো বিদ্যুতের সেই নিয়ন্ত্রক যা ছাড়া আমরা কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র নিরাপদভাবে চালাতে পারতাম না। এটি একদিকে যেমন বিদ্যুৎ অপচয় করে (তাপ হিসেবে), অন্যদিকে আধুনিক সভ্যতার অনেক যন্ত্র এই তাপ বা বাধার ওপর ভিত্তি করেই চলে।
১. সুপার-কন্ডাক্টর কী?
উত্তর: কিছু পদার্থ অত্যন্ত শীতল অবস্থায় নিয়ে গেলে তাদের রেজিস্ট্যান্স প্রায় শূন্য হয়ে যায়। এদেরই সুপার-কন্ডাক্টর বলে।
২. ইনসুলেটরের রেজিস্ট্যান্স কেমন হয়?
উত্তর: প্লাস্টিক বা রাবারের মতো অপরিবাহী পদার্থের রেজিস্ট্যান্স অত্যন্ত বেশি (অসীম), তাই এদের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ চলাচল করতে পারে না।